দেশের পুঁজিবাজারে সার্বিকভাবে গড় লেনদেনের পরিমাণ কমছে, যার প্রভাবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তেমন বাড়েনি। ফ্রি ফ্লোটের ভিত্তিতে শীর্ষ বাজার মূলধনি কোম্পানিগুলোর গত নভেম্বরের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণসংক্রান্ত তথ্য অনুসারে, পাঁচটি কোম্পানিতে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ বেড়েছে, কমেছে ছয়টিতে। তবে বেশির ভাগ কোম্পানির বিদেশীদের শেয়ার ধারণ অপরিবর্তিত ছিল।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ বছরের নভেম্বর শেষে আগের মাসের তুলনায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকে বিদেশীদের শেয়ার বেড়েছে। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, গ্রামীণফোন, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের কমেছে।
নভেম্বর শেষে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিদেশীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে। গত অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের গত নভেম্বরে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ ছিল দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে ছিল দশমিক ৮২ শতাংশ। ইস্টার্ন ব্যাংকে নভেম্বর শেষে বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার দাঁড়ায় দশমিক ৪৪ শতাংশে, যা গত অক্টোবরে ছিল ৪০ শতাংশ।
প্রাইম ব্যাংকে বিদেশী শেয়ার ধারণ নভেম্বর শেষে ছিল ৪ দশমিক ১১ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে ছিল ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংকের নভেম্বর শেষে বিদেশীদের শেয়ার ধারণ ছিল দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে ছিল দশমিক ৭৯ শতাংশ।
এদিকে গত নভেম্বর শেষে ব্র্যাংক ব্যাংকের বিদেশীদের শেয়ার ধারণ ছিল ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, অক্টোবর শেষে যা ছিল ৩১ দশমিক ৯২ শতাংশ। বেক্সিমকো ফার্মার নভেম্বর শেষে বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার ছিল ২৭ শতাংশ, অক্টোবর শেষে যা ছিল ২৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির নভেম্বর শেষে বিদেশী শেয়ার ধারণ ছিল ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, আগের মাস শেষে যা ছিল ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া নভেম্বর শেষে গ্রামীণফোন, ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের বিদেশী শেয়ার ছিল যথাক্রমে ১, দশমিক ৩৫ ও ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অক্টোবর শেষে কোম্পানি তিনটির বিদেশী শেয়ারধারণ ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ৩, দশমিক ৩৭ ও ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গত নভেম্বর ও অক্টোবরে বিদেশীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ একই ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রেনাটা, ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন, বার্জার পেইন্টস, ইউনাইটেড পাওয়ার, ইউনিলিভার কনজিউমার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও পাওয়ার গ্রিডের। এসবের মধ্যে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিদেশীদের ধারণকৃত শেয়ার ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, রেনাটার ২১ দশমিক ২৬, ইসলামী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৮৯, বার্জার পেইন্টসের দশমিক ২০, ইউনিলিভার কনজিউমারের দশমিক ১১ ও ওয়ালটনের দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ রয়েছে।